....

পাণ্ডুলিপি থেকে : নিহিলের বনে / সৈয়দ সাখাওয়াৎ



আমাকে করেছো পর, বাজিয়েছো আপন সানাই
নদীর গহীন স্বর ভুলনাম থেকে হয় উচ্চারিত
আমি যেন শিকারীর রাইফেলে দ্যাখা নীল গাই
ভেঙে পড়ছি বিষাদে জীবন থেকে প্রতিনিয়ত
তবে কি প্রশ্নের সারি—পড়ে আছে স্বপ্নের ওপারে—
সুরস্রষ্টার বিনয়ে? লোক থেকে অতি কোন লোকে?
না কি আনাজের বনে পাখিদের দূর সংসারে
যেখানে সকাল আসে শিশিরের জলে-কিংশুকে
ভেবেছি সেসব নাম যারা কাছে থেকে যায় দূরে
প্রবল প্রবল জ্বরে মনে পড়ে শোকের কফিন
যারা বেঁধেছিলো মায়া, আজ নেই অতি দরকারে
জেনেছি প্রেমের আয়ু—শীতশুষ্ক প্রথমের দিন
অতিকায় হাতিদের দিন ফুরিয়েছে পালাক্রমে
তেলাপোকা টিকে গ্যাছে নবায়নে প্রায় অসম্ভবে
আমিও জেনেছি শেষে টিকে থাকার চির মৌসুমে
স্মৃতিরা বেদির মতো শব্দহীনতার ফুল—স্তম্ভে!




সেদিন বৃষ্টির রাতে তুমি যেন অতন্দ্র প্রহরী
রাত জেগে জেগে ক্লান্ত দু’চোখে ছিল শীতল ভয়
মনে হচ্ছিল যেনবা এক বাকহীন অশরীরী
তুমি শেখালে করুণা—বিরহ গানে শোনানো হয়
সেদিন জেনেছি ক্রোধ, খুনের পিপাসা কাকে বলে
উদ্ভ্রান্ত দৃষ্টি জলের পিপাসা বাড়িয়ে দিতে পারে
যেন শিকারীর টোপ—টপকে যেতে হবে কৌশলে
কখনো ব্যাধির মতো চলে যাবে ভুল সংসারে
তখন জেনেছি হাড়ে কী অসহ্য শীত জমে থাকে
কুয়াশার মতো ঘন অন্ধকার ঘিরে চারপাশ
বাড়ে বেদনার আয়ু— মৃতজীবন কখনো ডাকে—
বলে—তবে কেন করো এই স্থুল জীবনের চাষ?
জীবন এক ব্যাধির মতো ওষুধের কারবার
প্রতিনিয়ত দেখছি জানালায়—আকাশের দিকে
যেন কনডেম সেল—একটাই সুযোগ বাঁচার—
চির বিলয়ের দিকে হাঁটবো ক্যামোফ্লেজ পোষাকে




যে ব্যথা নেশার মতো ছড়িয়েছে রক্তে ও নিদ্রায়—
মিশে গেছে নিঃশ্বাসে, শেষ গল্পে-আলোক রেখায়
তাকে দেখি উৎপাতে—দুপুরের রোদে জায়মান
যেন স্থির রেখা এক জলে নামা মহিষের স্নান
আমাদের বাড়িপথে ধূলি ধূসরিত সেই সন্ধ্যা
থেমেছিল—অসীমের টানে— প্রিয় জাগতিক ক্ষুধা
দরিয়া নগরে তুমি ছড়িয়েছো গল্পের রেশম
অতি বর্ষার জোয়ার কমে আসা উঁনুনের ওম
সকল আঁধার শেষে তবু আসে শরীরের সাঁকো
যে ব্যথা নেশার মতো তাকে কেন ভুলনামে ডাকো?




কে যেন ছড়িয়ে দেয় শোকাকূল মেঘেদের গান
ধুয়ে যায় সমগীতে—জামা,জুতো যত পরিধান
কুঁকড়ে ওঠে মরমে—অস্পষ্ট আলোয় তুমি কাঁদো
প্রতিবৃষ্টিতে কুণ্ঠিত হও প্রবল জলের মতো
কখনো বিনিদ্র রাতে পুড়ে পুড়ে থেমে গেলে বাতি
এইসব নিষ্ফলতা ফিরে আসে ভুলের নিয়তি
একদিন এ’শহর জেনেছিলো রূপকথা সব
কবির হৃদয় জানে—শেলবেঁধা ব্যথার গৌরব




ভেবে দ্যাখো একদিন এই ঘনিষ্ঠতা-আলাপনী
থেমে যাবে—তুমি হবে দূরগামী—হয়তো আমিও
তবু থেকে যাবে কিছু বোধের অতীত কোলাহল—
বিস্ময়চিহ্নের মতো তাড়া করে যাবে আমাদের।
এইসব আশ্বাসের ভেতর বেঁচে থাকা কঠিন
যতটুকু পূর্ণ হবে বাকিটুকু পড়ে হবে মাটি
সকালের ঘাসে তবু রয়ে যাবে কা’র স্মৃতিটুকু?
কিছুই জানা হবে না—জানি না কোথায় নাচে মন।
তবু এই বাস্তবতা জেনেও পাখিরা গেয়ে ওঠে
দরোজার মুখ থেকে শোনা যাবে মুগ্ধ শিৎকার
আশঙ্কায় জানাজানি হবে—ছেড়ে চলে যাবে দূরে
সকলেই ভুলে যাবে বিনিদ্র রাতের অন্ধকার।
কেননা পাখির ডাক শুনে জেগে উঠে প্রতিদিন
আমরা পরস্পরের দিকে হেঁটে যাবো চিরদিন।





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

9 মন্তব্যসমূহ

  1. এই অংশটুকু মনোজ্ঞ মনে হল। আমি নিম্নমানের পাঠক, তবুও মনে হল এই অংশটুকু যেন কি বলতে চায়
    "কে যেন ছড়িয়ে দেয় শোকাকূল মেঘেদের গান
    ধুয়ে যায় সমগীতে—জামা,জুতো যত পরিধান
    কুঁকড়ে ওঠে মরমে"
    আমি যেন আজ সারাদিক খুঁজে ফিরি সেই কাহাকে। আহা

    উত্তরমুছুন
  2. কিছু কিছু লাইন ভাল্লাগল না৷ সরি

    উত্তরমুছুন
  3. এমন একটা শব্দ দিয়ে নাম রাখছে, এখ যাও অভিধান খোল৷ এর চাইতে নিখিলের দেশে নাম রাখলে অর্থবোধক হইতো৷

    উত্তরমুছুন
  4. নিমগ্ন হলাম এই অংশে == কে যেন ছড়িয়ে দেয় শোকাকূল মেঘেদের গান
    ধুয়ে যায় সমগীতে—জামা,জুতো যত পরিধান== হে হে আমিও বোধহয় কবিতা লিখে ফেললাম।

    উত্তরমুছুন
  5. মিজান মোল্লা১ মার্চ, ২০২১ এ ৮:৫১ AM

    মিস্টি কবিতা। ভালো লাগলো কবি ও সম্পাদক। দোয়া করি এরকম কবিতা যেন বারবার পড়তে পাই।

    উত্তরমুছুন

অস্বাভাবিক মন্তব্যের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।